বিজয়ার দিনে সিঁদুর খেলা মেয়েদের একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। এই আচারটি আজ দুর্গাপুজোর একটি অঙ্গ হিসেবে পরিচিত। যে বিবাহিত নারীর সিঁথির সিঁদুর অন্য সময়ে দূরবিন দিয়েও দেখতে পাওয়া যায় না, তাঁকেও দুর্গাপুজোর এই অনুষ্ঠানে আগ্রহের সঙ্গে অংশ নিতে দেখা যায়। প্রশ্ন জাগতেই পারে, আজকের যুগের নারীদের কাছেও সিঁদুরখেলার এত গুরুত্ব কেন?

হিন্দু বিবাহ রীতিতে সিঁদুরদান লৌকিক আচার মাত্র হলেও সুপ্রাচীন কাল থেকে বিবাহিত নারীরা স্বামীর মঙ্গলকামনায় সিঁথিতে সিঁদুর পরতেন। দেবী দুর্গাও বিবাহিত নারী হিসেবে সিঁদুর ব্যবহার করেন। দুর্গা পুজোয় যে যে উপচার দেবীকে দান করতে হয়, তার মধ্যে সিঁদুর রয়েছে। ‘‘সর্বলোকের রঞ্জন পরমসৌন্দর্যযুক্ত সিন্দুর তিলক তোমার কপালকে মণ্ডিত করুক’’— এই বলে দেবীর কাছে প্রার্থনা জানানো হয়।

আসলে বিজয়ার যে ছবিটা আমাদের চোখের সামনে ভাসে, তা হল— প্রতিমার চলে যাওয়া। মা দুর্গা পুজো পান! দেবী রূপে, বিদায় নেন কন্যা রূপে। বিদায় বেলায় এয়োস্ত্রীরা নতুন বস্ত্রে বরণ করেন দেবীকে। দেবীবরণ শেষে নিজের স্বামীর মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনায় সিঁদুর খেলা করেন বিবাহিত মেয়েরা।

‘ভবিষ্য পুরাণ’-এ বলা হয়েছে, সিঁদুর হচ্ছে স্বয়ং ব্রহ্মের প্রতীক। বিবাহিত নারী সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে পরম ব্রহ্মকে আহ্বান করেন স্বামীর মঙ্গল ও দীর্ঘায়ু কামনায়। পরম ব্রহ্ম শুধু স্বামীকে নয়, দম্পতিকেই সুখ উপহার দেন।

‘শ্রীমদভাগবত’-এ কাত্যায়নী ব্রত উপলক্ষ্যে গোপিনীদের সিঁদুর খেলার বিবরণ রয়েছে।

সিঁদুরের দেবতা পরমব্রহ্ম সংসারের দুঃখ বাধা কষ্ট দূর করে সুখ উপহার দেন। তাই আজকের যুগের বিবাহিত নারীরাও দশমীর দিন সিঁদুর খেলায় অংশগ্রহণ করেন।

শুভ বিজয়া :
Reporter - subham maji (Managing Director)

One thought on “বিজয়াতে নারীদের কাছে #সিঁদুর খেলার এত গুরুত্ব কেন ?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *